शनिवार, 1 अक्टूबर 2016

নারী মর্যাদা

একটা নারীর যখন জন্ম হয়, ইসলাম বলে -“যার ঘরে প্রথমে কন্যা সন্তান হয় সেই ঘর বরকতময়”। নারী যখন যুবতী হয়, ইসলাম ঘোষনা দেয় – “যে তার মেয়েকে সঠিকভাবে লালন পালন করে ভাল পাত্র দেখে বিয়ে দেয় তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। নারী যখন বিবাহিত, ইসলাম বলে – “সেই পুরুষই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম”। নারী যখন সংসারী, ইসলাম বলে – “স্ত্রীর দিকে দয়ার দৃষ্টিতে তাকানো সওয়াবের কাজ। এমনকি স্ত্রীকে আদর করে মূখে এক লোকমা খাবার তুলে দেয়াও”। নারী যখন গর্ভবতী, ইসলাম বলে – “গর্ভাবস্থায় যে নারী মারা যায় সে শহীদের মর্যাদা পায়”। নারী যখন মা, ইসলাম বলে – “মায়ের পদ তলে সন্তানের জান্নাত। ইসলাম যখন নারীকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছে , তার সুষম অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে , তাকে আদর্শ একটি পরিবার ও সমাজের কারিগর বানিয়েছে সেখানে ইসলামিক ধ্যান ধারনা বাদ দিয়ে কিছু তথাকথিত আধুনিক , নারীবাদী, ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী চিৎকার করছে নারীর সমান অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন , নারীর ক্যরিয়ার ইত্যাদির নামে আসলে নারীকে অসম্মানিত করতে, নিরাপদহীন করতে, অর্থ ও খ্যাতির নামে নারীদের পণ্য বানিয়ে কলঙ্কিত করতে এবং কলুষতা ছড়িয়ে আমাদের পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থায় ভাঙ্গন ধরাতে । আর এতে আপনি, আমি, আমাদের মা বোন সবাই অসুখী , অশালীন , অকল্যাণকর , অন্যায্য জীবন ব্যবস্থার দ্বারপ্রান্তে । আসুন আমরা সঠিক পথে চলি সঠিক কথাকে ছড়িয়ে দিই মানবের মাঝে। -

একজন পাগল, যে বদলে দিয়েছিল পাগলের সংজ্ঞা

পরিবারের মধ্যে তিনি ছিলেন ২য়। মানসিক সমস্যার পূর্ব ইতিহাস বিদ্যমান ছিল পরিবারে। তার আপন খালাই ছিলেন মানসিক বিকারগ্রস্থ। আর কিশোর বয়সেই মৃগীরোগের লক্ষণ প্রকাশিত হবার পর অল্প বয়েসে মারা যান তার বড়ভাই। তিনিসহ অপর তিন ছোটভাইয়েরও মৃত্যু হয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করা অবস্থাতেই। যাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা। চাকুরীজীবনে প্রবেশের পর ক্রমাগত বাড়তে থাকা মর্মপীড়া সহ্য করতে না পেরে কর্মক্ষেত্র ছেড়ে বাড়ী ফিরে আসার পর চব্বিশ বছর বয়সে তিনি নিজেও নিজ কক্ষের জানালা থেকে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করে বাড়ী ফিরে আসার পর তিনি এতটাই ভেঙ্গে পড়েন যে, কথা বলা বন্ধ করে দেন। চিকিৎসাগ্রহণ অবস্থাতেই তিনি আক্রান্ত হন বিষন্নতা ও প্যারানইয়ায়(একপ্রকার মস্তিষ্ক বিকৃতি জনিত রোগ)। তিনি অলীক বিক্ষণেও আক্রান্ত ছিলেন। শারিরীক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার অবস্থায় এরপরের তিনটি বছর তিনি কাটিয়ে দেন বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। এ দীর্ঘ সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মচারীদের দ্বারা নানাভাবে ক্রমাগত শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হন তিনি। যা তার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। মানসিক রোগগ্রস্থদের প্রতি একধরনের নেতিবাচক ধারণা প্রবল ছিল তৎকালে। তাদেরকে অস্বাভাবিক কোনোকিছুর প্রভাবে প্রভাবিত বলে ধারণা করা হতো। পরবর্তীতে অনেকটা স্বপ্রোনোদিত হয়েই তিনি সুস্থ্য হয়ে ওঠেন এবং তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে তিনি লিখেন একটি আত্মজীবনী, বিশেষ করে হাসপাতালে উৎপীড়িত হওয়ার ঘটনাগুলো, যেগুলো তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। বলছিলাম ‘ক্লিফোর্ড উইটিংহাম বিয়ার্স’ এর (১৮৭৬-১৯৪৩) কথা। যিনি “A mind that found itself” বইয়ের লেখক। এই বইটি ছিল ইতিহাসের এক মাইলস্টোন। অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় তিনি বলতে চেয়েছেন যে, মানসিক রোগীরাও মানুষ। বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর আলোড়ন সৃষ্টি হয় গোটা আমেরিকায়। নড়ে-চড়ে বসেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। এরপরই মানসিকভাবে অসুস্থ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তার সূত্রপাত হয়। ১৯০৮ সালে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগীতায় কানেকটিকাটে বিয়ারস গড়ে তোলেন ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর মেন্টাল হাইজিন’ নামক প্রতিষ্ঠান, যা বর্তমানে ‘মেন্টাল হেলথ আমেরিকা’ নামে পরিচিত। এর উদ্দেশ্য ছিল মানসিক রোগের কারণ সংক্রান্ত গবেষণায় ও মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ট্রেনিঙয়ের জন্যে অর্থ সহায়তা জোগাড়। “Mental Hygiene and Understanding the Child” তারা একটি পাক্ষিক ম্যাগাজিনও প্রকাশ করেন। এর ফলে বিভিন্ন প্রদেশেও সচেতন নাগরিকরা অনুরুপ কমিটি গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সহায়তা করেছিলেন জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক এ্যাডলফ্‌ মেয়ার। ‘Mental Hygiene’ শব্দটি তিনিই সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন এবং এ বিষয়ের উপর মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ লেখালেখি তার বিশেষ অবদান। ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন বিখ্যাত মনোচিকিৎসক ছিলেন। নিরলস পরিশ্রম ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির ক্রমাগত প্রচেষ্টার ফলস্বরুপ ১৯৩০ সালে বিয়ার্স-এর তত্বাবধানে ‘ওয়াশিংটন ডিসি’তে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস ফর ন্যাশনাল হাইজিন, যাতে ৫১টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এই সম্মেলনকে বিয়ার্স-এর জীবনের সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে গণ্য করা হয়। মানবতার জন্য বিশেষ অবদয়ান রাখায় পরবর্তীতে ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে তাঁকে একটি সম্মানজনক ডিগ্রি প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে বিয়ার্স ছিলেন নিঃসন্তান। স্ত্রী ক্লারা লুইস জিপসন ও বিয়ার্স মানসিক এই সমস্যার ইতিহাস থাকায় সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালে সাতষট্টি বয়সে রোডে দ্বীপের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিয়ার্স-এর জীবনাবসান ঘটে। বিয়ার্স চলে গেছেন তবে তার স্বপ্নের সাফল্যগাথা লিপিবদ্ধ রয়ে গেছে ইতিহাসে। মানসিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার না মেনে আজীবন লড়ে গেছেন তিনি । এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। মানসিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান স্থান করে নিয়েছে জাতীয় জীবনের অপরিহার্য বিষয়াবলির সাথে। সমাজের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কারো কারো যে সীমাবদ্ধতা, তার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে গবেষণা করে বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সমাজবিজ্ঞানী-মনোবিজ্ঞানীরা। সভ্যতা এগিয়েছে, বিজ্ঞান তার বিস্ময়কর সব আবিষ্কার দিয়ে প্রতিদিনই চমকে দিচ্ছে বিশ্বকে। মানবমনের রহস্য ও গতি-প্রকৃতি নিয়েও কম হয়নি গবেষণা। তবে মানুষ মানুষকে জেনেছে সামান্যই।

IF U DON’T STOP THIS….WHO WILL?

‘পরীক্ষা তারাতারি শেষ হয়েছিল তাই আমার আরেক বান্ধুবিকে সাথে নিয়ে ক্যান্টিনে চলে গেলাম খেতে। ক্যন্টিনের খাবারের টেবিল ২ টা এর একটা অনেক উচু তাই ওপাশে কেউ থাকলে দেখা যায় না। আমরা সিংগারা অর্ডার করলাম।এরমধ্যেই পাশের উচু টেবিলের পেছন থেকে ছোট একটা বাচ্চার গোঙ্গানির শব্দ,খুব পরিচিত কন্ঠ। ছোট টেবিল থেকে মাথা বের করে তাকিয়ে দেখি ক্যান্টিনের মধ্যবয়সী এক দোকানদার আমাদের এক ম্যাডামের ৪বছরের মেয়ের সাথে কিছু একটা করছে। প্রতিবাদ করার মত সাহস আমার ছিল না তাই কোন রকম রাগ না দেখিয়ে মেয়েটিকে আস্তে করে ডেকে বললাম ম্যাডাম ওকে ডাকছে।আমরা বাচ্চাটাকে নিয়ে ম্যাডামের কাছে গেলাম আর সব ঘটনা খুলে বললাম। ম্যাডাম কষ্ট পেলেন। তবে তিনিও হয়ত ভয় পেয়েছেন তাই লোকটাকে কিছুই বললেন না আর আমাদেরও বললেন অন্য কাউকে বিষয়টা বলতে না’ গতদিন এই ঘটনা বলছিল আমার ছাত্রী। শুনে প্রথমে খুব খারাপ লাগছিল কিন্তু পরে রাগ হলো। আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরেই শিশুরা কোন না কোন ভাবে abuse হচ্ছে ।কিন্তু পেপারে ছাপা হচ্ছে না বলে আমাদের কর্ণকুহরে এসব ঘটনা কোন আলোড়নই জাগাতে পারছে না। গত বছর child এর কোর্সে পড়েছিলাম – সামান্য আঘাত করা , গালি , মানসিক কস্ট , টিটকারি দেয়া,তাচ্ছিল্য করা এই ছোট বিষয় গুলোকেও শিশু মনোবিজ্ঞানীরা child abuse ধরে থাকেন।কারন এই সামান্য আঘাতেই শিশুর জীবনে অনেক বড় ক্ষতি করে যেতে পারে। সেখানে physical abuse শিশুকে জীবনের কোন পরিণতিতে ঠেলে দিতে পারে তা কারোই অজানা থাকার কথা নয়। সমাজের এসব ঘৃণ্য নরপশুদের কিছু বলার নেই কারন তারা কোন ভাষার ঊর্ধ্বে , তাদেরকে শুধু শাস্তি দিয়েই কিছু বোঝানো সম্ভব । কিন্তু সমাজের আর বাকি মানুষদের কি বলবো ? বাবা-মা ? একটু সতর্কতা, একটু হেকমতের অভাবে কত শিশু রোজ এভাবে বলি হয়ে যাচ্ছে ভোগ্য পন্য হিসেবে । খবরের কাগজে কালো অক্ষরের ফ্রেমে বন্দি হওয়ার আগে কি কেউ কোন পদক্ষেপ উঠাবে না ?

নিঃশব্দ ভালবাসা

সে অনেক কিছু বুঝতে পারে। আনেক কিছু চিন্তা করতে পারে। অনেক কিছু করতেও পারে। তবে সমস্যা একটাই, সে কথা বলতে পারেনা। বাবা-মা, দুই বোন ও এক ভাই নিয়ে তাদের সংসার। এই ছোট্ট চড়ুই পাখির মত পরিবারটিকে ও জান-প্রান দিয়ে ভালবাসে। দুনিয়াতে বন্ধু ও আপন বলতে আছেত ওরাই। সায়মার হৃদয়ের আকাশ ভরা স্বপ্ন, আদর-স্নেহ সবটুকু তার পরিবার ঘিরে। সপ্তম শ্রেণী পাশ করে অষ্টম শ্রেণীতে পা দিলেও আজও কোন বন্ধু বানাতে পারেনি ও। সহপাঠীদের বন্ধু বানাতে ও কি-না করেছে! হাতে বানানো কার্ড, কলম দিয়ে সহযোগিতা, হোম ওয়ার্ক দেখিয়ে ম্যাম এর হাত থেকে বাঁচানো…। তবে একটিতে সে ব্যর্থ হয়েছে, যে, সে ভাল কথাবাজ না। আসলে সেত কথাই বলতে পারেনা। পরীক্ষার সময় পেছন থেকে জিজ্ঞেস করলে ম্যাম এর চোখ ফাঁকি দিয়ে উত্তর বলে দিতে পারেনা। ক্লাসে মজার গল্প বলতে পারেনা। এজন্যই ওর বন্ধু টেকেনা। তবুও সে চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। ঘরের মানুষ গুলোও ব্যাস্ত। ছোট বোনটা তার বই খাতা নষ্ট করলেও তার মমতা দিয়ে বোনটিকে ক্ষমা করে দেয়। ওর তিন বছরের ছোট বোনটি ওকে নাম ধরে ডাকে, তবু ও কিছু মনে করেনা। “সায়মা। এই সায়মা। অঙ্কটা বুঝিয়ে দেত।“ বোনের আদেশে মিটি মিটি হাসে সায়মা। খাতা আর কলমটা নিয়ে করে দেয় অঙ্ক। “আরে ধ্যাত! তোকে আমি অঙ্ক করতে বলেছি? অ্যা ? অঙ্কত আমিও মুখস্ত লিখতে পারি। বললাম বুঝাতে।“ “ওমা! একি আশ্চর্য কথা বলছে রাফা! সে যেন জানেনা আমি বোবা?!” বোনের মনের ভাব বুঝতে পেরে রাফা মুখ বাঁকায়। “ও……। ভুলেই গেছি। তুইত কথাই বলতে পারিসনা। তুই যে কেন আছিস! কোন কাজই করতে পারিসনা। ভাইয়া আমাকে একটু অঙ্কটা…।“ বলতে বলতে চলে যায় রাফা। সায়মার হালকা অভিমান হয়। “কে বলল, আমি কিছু পারিনা? আমি শুধু বলতে পারিনা। আর সবই তো পারি।“ ক্রিং ক্রিং ফোনটা বাজছে। কেও উঠাচ্ছেনা কেন? “ রাফা……। ভাইয়া……।“ চিৎকার করতে গিয়ে, ফোঁস ফোঁস শব্দ ছাড়া সায়মার মুখ দিয়ে আর কিছুই বের হলনা। ছোট বেলায় টনসিল খুব মারাত্মক হয়ে যাওয়ায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেয় বাবা-মা। বাবার শিক্ষকতা পেশায় যতটুকু সম্ভব ছিল, এক কাঁচা প্রায় হাতুড়ে শ্রেণির এক চিকিৎসককে দিয়ে অপারেশনটা করানোর সময় টনসিলের সাথে সায়মার কণ্ঠনালীকেও মারাত্মক ভাবে ফুটো হয়ে যায়। আর চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায় সায়মার কথা। অনেকে বলেছিল বিদেশে নিলে ভাল করা যাবে, কিন্তু তা-কি আর সাদ্ধে আছে? “ওহ! ফোনটা বেজেই চলছে। মা কোথায়?“ অতঃপর রিসিভারটা তুলে কানে ঠেকায়। “কি বলবো আমি? আমিতো কিছুই বলতে পারিনা।“ ওপাশ থেকে কেও একজন হ্যালো হ্যালো করছে। হটাৎ টান দিয়ে রিসিভারটা নিয়ে নিলেন মা। বেশ কিছুক্ষন কথা বলে ফোন রেখে, ঠাশ করে করে একটা চড় লাগালেন সায়মার গালে। “তোকেনা বলেছি ফোন ধরতেনা? কথা বলতে পারিসনা, তবে ফোন ধরিস কেন? হ্যাঁ ?” কোন জবাব দেয়ার সামর্থ্য নেই ওর। তাই চুপ করেই থাকে। বারান্দায় দাড়াতেই শুনতে পায়। “ফাগুন অথবা আগুন, গাঙচিল মিষ্টি বাতাস, আমি সব কিছু বুঝি, তবু বলতে পারিনা, আবার এও সত্যি নয়, কখনো কিছু বলবনা……” পাশের ফ্ল্যাটে টিভি ছেড়েছে বোধয়। দীর্ঘ শ্বাসটা বুক চিঁরে অচানায়কই বেড়িয়ে পরে। এর পরই আবার, সমস্ত খারাপ আচরণ ভুলে ভালবাসতে থাকে পরিবারের মানুষদেরকে। কারণ এরা ছাড়াত তার কেও নেই। “ওমা! গাছের ডালে এটা কি ঝুলছে? ভাইয়ার সখের ঘড়িটা না?” বারান্দার গ্রিলের ফোঁকর গলিয়ে হাত বাড়িয়ে পাশের উঁচু গাছটার নিচু ডাল হতে বহু কষ্টে ঘড়িটা উদ্ধার করে। ভাইয়া বেশ কিছুদিন ধরে খুঁজে পাচ্ছেনা। এখন ওর হাতে দিলে সে যে কতটা খুশি হবে, তা ভেবেই একধরনের রোমান্স জাগে তার মাঝে। দৌরে ছুটে যায় ভাইয়ার রুমে। ভাইয়াকে কিছু বলা লাগেনা। সায়মার হাতে ঘড়িটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে তা কেড়ে নিল লাবিব। “ও…। তুই-ই তাহলে এতদিন এটা লুকিয়ে রেখেছিস না?” “সেকি! ভাইয়া এসব কি বলছে?” সায়মার গালে জোরে একটা চড় মেরে ধাক্কা দিয়ে তাকে রুম থেকে বের করে দেয় লাবিব। প্রতিবাদ করতে পারেনা এবার ও সে। কারণ, সে বলতে পারেনা। অভিমানী অশ্রু ঝরে পরে তার শ্যামলা গাল বেয়ে। ভালবাসা এসে মুছে দেয় তা। সায়মা বিশ্বাস করে, যত খারাপ আচরণই করুকনা কেন, তার পরিবার মনে মনে তাকে খুবই ভালবাসে। তবে সমস্যা একটাই, এ ভালবাসার কথা কেও কাউকে বলতে পারেনা। যদিও অন্যরা কথা বলতে পারে, তবুও ওরা ভালবাসি বলতে পারেনা। “কিন্তু কেন? তারা কি এই শব্দটার জন্য আমার মত বোবা?” কলিংবেল এর শব্দে ওর ভাবনা ছুটল। বাবা এসেছে। আনন্দ ভরে ছুটে যায় বাবার কাছে। মুখ দিয়ে বলতে চায় “বাবা এসেছ?” কিন্তু কেমন গাধার মত অদ্ভুত ঘ্যা ঘ্যা ছাড়া কিছুই তার কণ্ঠ দিয়ে বের হয়না। “হাঃ হাঃ হাঃ” হাসিতে গড়িয়ে পরে লাবিব আর রাফা। “সায়মা। তোর গাধাটাকে খাবার দাবার কিছু দিসনা নাকি? রাত-দিন অতো চ্যাঁচ্যাঁয় কেন?” রাফার কোথায় প্রতিবাদ স্বরূপ ওর কণ্ঠ দিয়ে আবার ঘ্যা ঘ্যা আওয়াজ বের হয়। বাবা রেগে যায়। “এই! সারাদিন খালি ঝগড়া। একটা বোবা মেয়েকে নিয়ে তোরা এত চ্যাচাস কেন? বাইরেও চ্যাঁচামেচি, ঘরেও। ভাল্লাগেনা। জীবনটাকে লাথি মারি।“ গজ গজ করতে করতে ভেতরে যান তিনি। সবার চিন্তায় বাবার মাথা একটু হট থাকে। তা সবাই জানে। তাই কারোও গায়ে লাগেনা।তবে সায়মা রেগে যায়।“ যাহ্‌ আর এই বাসায় থাকবনা। যাদের এত ভালবাসি, তারা কেও আমাকে ভালবাসেনা।“ খোলা দরজা দিয়ে বেড়িয়ে গেল সে। “আরে! আরে! কোথায় যাচ্ছিস? মা দেখ। ভাইয়া যাওনা! ও কই যাচ্ছে?” রাফা চেঁচিয়ে ওঠে। লাবিব ছুটে যায়। সায়মা ৫ তালার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে থাকে। পেছনে তাকিয়ে দেখে লাবিব ও সিঁড়ি ভাঙ্গছে। আরও দ্রুত সিঁড়ি ভাংতে শুরু করে সায়মা। হটাৎ কিভাবে জানি সিঁড়ির দু-তিন ধাপে মা ফসকে পরে যায় সায়মা। কিছুক্ষন গড়াতে গড়াতে ওর পৃথিবীটা অন্ধকার হয়ে যায়। চোখ খুলতেই নিজেকে একটি সাদা সাদা রুমে সাদা বিছানায় আবিষ্কার করে সায়মা। ঘার ফিরিয়ে দেখে, তার দু পাশের দুটি বেডে রাফা ও লাবিব শুয়ে আছে। মাথার কাছে মা। তার কণ্ঠ সুন্তে পায় সায়মা। “তুই কেন ওভাবে ঘর থেকে দৌর দিলি মা? দেখ কিভাবে মাথা ঠুকে এক্সিডেন্ট করলি। তোর এতো রক্তক্ষরণ হল যে, লাবিব আর রাফা রক্ত দিতে গিয়ে কাহল হল। আল্লার মেহেরবানি যে তুই বেঁচেছিস। এখন তোর বাবা গেছে ঔষধ আনতে। অমন করলি ক্যান মা? আমাদের কষ্ট লাগেনা বুঝি?” মায়ের কথাগুলো কিসের যেন জট খুলে দিল। সায়মার চোখ ঝাপসা হয়ে গেল। ওর রুদ্ধ কণ্ঠ মুক্ত হয়ে সজোরে বলতে চায়, “আমি শুনতে পেয়েছি। আমার পরিবার আমাকে বলছে, তারা আমাকে ভালবাসে। আমি জানলাম। তবে, খুব নিঃশব্দে।।”
একটা ছেলে, হাজার মেয়ের সাথে দুষ্টামি করতে পারে শত মেয়ের দিকে তাকাতে পারে কিন্তু যখন সে প্রেম এ পড়ে তার হৃদয় সেই মেয়েকে নিয়ে দুষ্টামি করতে চায় , আর শত মেয়ের দিকে তাকালেও মনে হয় যে সেই মেয়েটি তার হৃদয় এর মানুষটি একটা ছেলে একটা মেয়ে থেকে বেশী ভাল বাসতে পারে,একমত!

ফেইসবুক ভালবাসা'

একদম বাস্তব এবং আমার সাথেই ঘটা গল্প।আমার ফ্রেন্ডলিস্টে একটা মেয়ে ছিল নিসু নাম। তাকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে নাকি সে আমাকে পাঠিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল মনে নেই।ওকে প্রায় অনলাইনে দেখতাম।আর আমার একটা অভ্যাস সারাদিন অনলাইনে থাকলেও তেমন কারো সাথেই চ্যাট করি না।এই মেয়েটার সাথেও আমি করিনি।প্রায় অনেক দিন পর মেয়েটাই শুরু করল হাই বলে।সেদিন অনেক কথা হল এবং ওইদিনই ভাল ফ্রেন্ডশীপ হল।'ফ্রেন্ডশীপের প্রস্তাবটা ওই দিয়েছিল।কথার মাঝখানে বলেছিল,আচ্ছা আমরা কি এবার বেস্ট ফ্রেন্ড পারি?আমি বললাম,ওকে। তারপর থেকে অনেক কথা হত। মাঝে মাঝে আমাকে বলতো,ফেইসবুকে তোমার সবচেয়ে ভাল ফ্রেন্ড কে?আমি অন্য কারো নাম বলতাম।যদিও নিসুকে আমি অনেক ভাল ফ্রেন্ড ভাবতাম।কিন্তু ওকে আমি কখনও তা বুঝতে দেইনি। একবার তো ও রাগই করে ফেলেছিল এই বলে যে,আমি এতোদিন ধরে তোমার সাথে কথা বল্ছি,সবকিছু শেয়ার করছি,তাও তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারলাম না?আর সবাই তোমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেল?ওইদিন ওর রাগ ভাঙানোর জন্য না পেরে ওকে বলেছিলুম,বিশ্বা স কর নিসু। আমার অনেক বেস্ট ফ্রেন্ড আছে।তার মধ্যে তুমিও একজন।যারপরনাই ওইদিন সে অনেক খুশি হয়েছিল এবং ওর ফোন দিয়ে বলেছিল সময় হলে ওকে একবার ফোন করতে। তারপর থেকে ফোনে অনেক কথা হত।তখনও আমি জানতাম না ও আমার প্রতি দুর্বল কি না। একদিন কেন জানি ইচ্ছে হল ওর সাথে একটু মজা করে দেখা যাক ও আমার প্রতি দুর্বল কি না। আর কি!তাই করলাম।সাথে সাথে ওকে ফোন দিয়ে বললাম,নিসু তুমি কি এখন ব্যস্ত?তোমার সাথে আমার খুব দরকারী কথা আছে।ও বলল,কি কথা?আমি বললাম,একটা কথা। তোমাকে জানাতে চাই এবং আমি জানতে চাই। জানিনা তখন সে কিছু বুঝেছিল কি না।ও আমাকে বলল ও নাকি এখন একটু ব্যস্ত আছে।পরে ও আমাকে ফোন দিবে। প্রায় ১ ঘন্টা পর ও আমাকে ফোন দিল।বলল,এবার বল কি জানতে চাও আর জানাতে চাও? আমি বললাম,নিসু তোমাকে যা বলব তাতে রাগ করবে নাতো?ও বলল,কি যে বল?পৃথিবীর সবার সাথে রাগ করতে পারলেও তোমার সাথে আমি রাগ করতে পারবনা।এবার বল।তারপর আমি বললাম,ওকে নিসু!আমি তোমাকে জানাতে চাই যে,আমি তোমাকে ভালবাসি।আর জানতে চাই তুমি কি আমাকে ভালবাস?প্লিজ সত্যি করে বল নিসু?তখন ও বলল।তুমি কি সত্যি আমাকে ভালবাস? আমি বললাম,কেন নিসু?তোমার কি বিশ্বাস হচ্ছে না?দেখ তুমি,তুমি য দি আমাকে না ভালবাস কাল থেকে ফেইসবুকে আর আসবনা এবং কোথা থেকে কোথায় যাব নিজেও জানি না।তখন ও আমাকে বললো,সেও নাকি আমাকে খুব ভালবাসে।কিন্তু এতোদিন বলতে পারেনি।ও নাকি এইদিনেরই অপেক্ষায় ছিল যেদিন আমি ওকে ভালবাসি বলব।আজ সে খুব সুখি। তাই বললো আমাকে। তারপর অনেকদিন প্রেম চলছে।একদিন আমার ফেইসবুকের একটা ফ্রেন্ড বললো,দোস্ত তোকে একটা নাম্বার দেই।তুই ফোন দিস। চাইলে প্রেমও করতে পারবি।আমি নিতে চাইনি।ও আমাকে জোর করে দিয়েছিল।আর ও যেই নাম্বারটি দিল সেটা হল নিসুর। কিছুটা আঁতকে উঠলাম।তারপর ওর আর কিছু ভালো ফ্রেন্ডের সাথে আমি ফ্রেন্ডশীপ করে সবাইকে একটাই কথা বলেছিলাম যে,দোস্ত একটা প্রেম করতে চাই একটা মেয়ে দাও।সবাই বলল মেয়ে তো দিতে পারব না,তবে নাম্বার দিতে পারি। অনেকে অনেক নাম্বার দিল।তার মাঝে নিসুর নাম্বারও।তারপর একদম পরিষ্কার হলুম ও একটা কল গার্ল। এরপরেও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওকে ফোন দিয়ে সব বললাম।তারপর থেকে সে আমার সাথে আর কথা বলেনি।আমার নাম্বারটা ব্লক দিয়েছিল এবং ফেইসবুক্ফ আমার আইডিটাও।জানিনা এই ঢঙের মধ্যেও ওকে কতটুকু ভালবেসে ফেলেছিলাম।জানি ও আমাকে ধোঁকা দিতে এসেছিল কি না।তবে ওইদিন খুব কষ্ট পেয়েছি।যা আজও মনে পড়লে অনেক কষ্ট পাই। জানিনা এখন সে কোথায় আছে,কার আছে,কেমন আছে।তবে নিসু তোমার চোখে যদি এই গল্পটা পড়েই যায় আর তাতে তুমি বিন্দু পরিমাণ কষ্ট পাও,তবে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।ম াফ করে দিও আমায় আর ভাল থেকো তুমি…

কি দরকার মিষ্টি কথার ছলনায় ফেলে আরেকজনকে ধোঁকা দেয়ার

মেয়ে!
?ধোঁকা দিতে চাও তো!তবে যাও তাদের কাছে,যারা ওয়ান টাইম প্রেম করতে চায় মেয়েদের সাথে।এমন অনেক পুরুষই আছে। আর আমি! হ্যাঁ,আমি হলাম চির প্রেমিক।যে চায় শুধু সারাজীবন নয় মৃত্যুর পরেও যদি তোমাকে পায় তখনও ভালবাসতে।অনন্তক াল ভালবেসে যাবে তোমাকে…